জ্বালানি তেলের সাপ্তাহিক দরবৃদ্ধি তিন মাসে সর্বোচ্চে

রাশিয়ার জ্বালানি পণ্য রফতানি কমানোর সিদ্ধান্ত ও ইউক্রেনের হামলার প্রভাবে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের বাজারে সাপ্তাহিক দরবৃদ্ধির হার তিন মাসে সর্বোচ্চে পৌঁছেছে।

রাশিয়ার জ্বালানি পণ্য রফতানি কমানোর সিদ্ধান্ত ও ইউক্রেনের হামলার প্রভাবে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের বাজারে সাপ্তাহিক দরবৃদ্ধির হার তিন মাসে সর্বোচ্চে পৌঁছেছে। গতকাল শেষ হওয়া সপ্তাহে পণ্যটির মূল্যবৃদ্ধি ৪ শতাংশ ছাড়িয়েছে। সাপ্তাহিক দরবৃদ্ধির হিসাবে এটি ১৩ জুনের পর সর্বোচ্চ। খবর রয়টার্স।

অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজার আদর্শ ব্রেন্টের দাম গতকাল ব্যারেলে ২১ সেন্ট বেড়েছে। প্রতি ব্যারেলের মূল্য পৌঁছেছে ৬৯ ডলার ৬৩ সেন্টে। এ সময় মার্কিন বাজার আদর্শ ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) দাম ৩২ সেন্ট বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৬৫ ডলার ৩০ সেন্টে পৌঁছে।

আর্থিক পরিষেবা প্রতিষ্ঠান আইজির বিশ্লেষক টনি সাইকামোর জানান, ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রুশ জ্বালানি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া, ন্যাটোর কড়া সতর্কবার্তা ও রাশিয়ার জ্বালানি রফতানি স্থগিত করার সিদ্ধান্ত বাজারে নতুন উত্তেজনা তৈরি করেছে।

রাশিয়ার উপপ্রধানমন্ত্রী আলেকজান্ডার নভাক জানান, দেশটি চলতি বছরের বাকি সময়ের জন্য ডিজেল রফতানিতে আংশিক নিষেধাজ্ঞা দিচ্ছে। এছাড়া এ সময় পেট্রল রফতানি বন্ধ রাখার সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে। এ ঘোষণায় স্থানীয়ভাবে কিছু অঞ্চলে জ্বালানির ঘাটতি দেখা দেয়াসহ জ্বালানি তেল উত্তোলন কমার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

এএনজেডের বিশ্লেষক ড্যানিয়েল হাইনস বলেন, ‘ন্যাটোর সতর্কবার্তা রাশিয়ার জ্বালানি তেল শিল্পে নতুন করে নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকি তৈরি করেছে। এতে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা আরো তীব্র হয়েছে।

তবে চলতি সপ্তাহে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার গতি কিছুটা কমিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের শক্তিশালী অর্থনৈতিক তথ্য। দ্বিতীয় প্রান্তিকে দেশটিতে জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৩ দশমিক ৮ শতাংশ। স্বাভাবিক অবস্থায় এর ধারাবাহিকতায় জ্বালানি তেলের বাজার আরো ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার কথা থাকলেও বর্তমানে পরিস্থিতি ভিন্ন। যুক্তরাষ্ট্রে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধির তথ্য মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা নিয়ে উদ্বিগ্ন ফেডারেল রিজার্ভকে সুদহার কর্তনের বিষয়ে আরো রক্ষণশীল অবস্থানে ঠেলে দিতে পারে বলে মনে করছেন বিনিয়োগকারীরা।

অন্যদিকে ইরাকের কুর্দিস্তান আঞ্চলিক সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সেখান থেকে জ্বালানি তেল রফতানি পুনরায় শুরু হতে যাচ্ছে। এতে দৈনিক সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ ব্যারেল জ্বালানি তেলের সরবরাহ বৈশ্বিক বাজারে যোগ হতে পারে, যা দামে প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এছাড়া ওপেক প্লাস-ভুক্ত দেশগুলোর অতিরিক্ত উত্তোলনের কারণেও সামনের দিনগুলোয় জ্বালানি তেলের দাম কমে আসতে পারে বলে মনে করছেন তারা।

তবে উত্তোলন সক্ষমতার সীমাবদ্ধতার কারণে জ্বালানি তেল রফতানিকারক দেশগুলোর জোটটি এখন নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ব্যর্থ হচ্ছে। এপ্রিল-আগস্ট পর্যন্ত সময়ে জোটটি নির্ধারিত বাড়তি সরবরাহের মাত্র তিন-চতুর্থাংশ বাস্তবায়ন করতে পেরেছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, বছরের শেষ দিকে এ ঘাটতি অর্ধেকে নেমে আসতে পারে।

রয়টার্সের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এপ্রিল-আগস্ট পর্যন্ত ওপেক প্লাস দৈনিক প্রায় পাঁচ লাখ ব্যারেল কম জ্বালানি তেল উত্তোলন করেছে, যা ওই সময়ের মোট লক্ষ্যমাত্রার প্রায় এক-চতুর্থাংশ। এ ঘাটতি বৈশ্বিক চাহিদার প্রায় দশমিক ৫ শতাংশের সমান।

ওপেক প্লাস সেপ্টেম্বরে দৈনিক ৫ লাখ ৪৭ হাজার ব্যারেল ও অক্টোবরে দৈনিক ১ লাখ ৩৭ হাজার ব্যারেল উত্তোলন বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছে। আরবিএসি ক্যাপিটালের হিসাবে, অক্টোবরে প্রকৃতপক্ষে মোট জ্বালানি তেল উত্তোলনের পরিমাণ দৈনিক ৭০ হাজার ব্যারেলের বেশি হবে না।

আরও